সাংবাদিক এবং বিদেশি পর্যবেক্ষকদের দেখাতে কৃত্রিম লাইন : চলে গেলেই শূন্য

Anweshan Desk

ডেস্ক রিপোর্ট

০৭ জানুয়ারী ২০২৪, ১৭:১০ পিএম


সাংবাদিক এবং বিদেশি পর্যবেক্ষকদের দেখাতে কৃত্রিম লাইন : চলে গেলেই শূন্য

বান্দরবান সদর পৌরসভার কালাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে আসা ভোটারদের দিয়ে লাইন

দেশব্যাপী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। তবে বিভিন্ন কেন্দ্রে  সাংবাদিক এবং বিদেশি পর্যবেক্ষ আসার খবর পেয়েই কেন্দ্রের আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকা নৌকার সমর্থক কর্তৃক  ভোট দেয়া ভোটার, ভাড়াটিয়া ভোটার, এমনকি কিশোর ভোটারদের দিয়ে কৃত্রিম লাইন তৈরি করতে দেখা গিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল ভোটকেন্দ্রে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের সমর্থকরা সাংবাদিকদের দেখে  একটি কৃত্রিম লাইন তৈরি করেছেন বলে জানিয়েছেন ডেইলি স্টারের সংবাদদাতা।

মিরপুর-১০ এর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে আতিকুল ইসলামের সমর্থকরাও ভোট কেন্দ্রের গেট বন্ধ করে কৃত্রিম লাইন তৈরি করেছিলেন।

সংবাদদাতারা জানান, ভোটাররা ঢুকতে না পারলেও দীর্ঘ লাইন তৈরি করে রাখা হয়েছে, যাতে মনে হয় সেখানে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি রয়েছে।

কাফরুলের ইব্রাহিমপুরের চেরি গ্রামার স্কুল ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থেকে হতাশ হয়ে পড়েন ভোটাররা।

এদিকে রাজধানীর বনানী মডেল স্কুল কেন্দ্রে একজন বিদেশি পর্যবেক্ষক আসার আগে তৈরি করা হয় ভোটারের দীর্ঘ লাইন। কিছুক্ষণ পরই স্কুলটিতে আসেন গোল্ড ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজির প্রেসিডেন্ট এলি এম গোল্ড। তিনি ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখেন। এরপর সাংবাদিকদের বলেন, অনেক ভোটার এসেছেন। ভালো ভোট হচ্ছে। 

বনানী মডেল স্কুলে বেলা ১১টা ২৭ মিনিটের ছবি। হঠাৎ তৈরি হলো ভোটারের দীর্ঘ লাইন। ছবি : প্রথম আলো 

তবে সেই পর্যবেক্ষক চলে যাওয়ার পরপরই বনানী মডেল স্কুলে ভোটারের দীর্ঘ সাড়ি প্রায় ফাঁকা হয়ে যায় বলে জানায় প্রথম আলোর সংবাদদাতা। তখন লাইনে দাঁড়ানো নারীরা দল বেধে কেন্দ্রের বাইরে চলে যাচ্ছিলেন।

ভোট না দিয়ে বাইরে চলে যাওয়া প্রায় ১৫ জন নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের রিকশা ভাড়া করে কড়াইল বস্তি এলাকা থেকে এনেছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নারী নেত্রীরা। সেখান থেকে লোক আনতে সারা দিনের জন্য রিকশা ভাড়া করা হয়েছে।

আলেহা বেগম পরিচয় দেওয়া একজন প্রবীণ ভোটার বলেন, তাঁকে বাসা থেকে রিকশায় করে আনা হয়েছে।

এছাড়া সকালের দিকে বান্দরবান সদর পৌরসভায় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, সাড়ে ১০টার একটু আগেও সেখানে কোনো লাইন নেই। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হঠাৎ নারী ও পুরুষদের পৃথক দুটি লাইন দাঁড়িয়ে যায়।

এ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের আঙুলে কালির দাগ আছে। জানতে চাইলে তারা গণমাধ্যমকে জানান, ইতোমধ্যে তারা ভোট দিয়েছেন। কিন্তু নৌকার কর্মীদের চাপে আবার লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে।

অন্যদিকে, সিলেট নগরীর একটি ভোটকেন্দ্রে দেখা গেছে, ভোটার নন এমন কিছু নারী একসঙ্গে প্রবেশ করে লাইনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ পর আবার চলে যান। রোববার সকালে নগরীর দুর্গাকুমার পাঠশালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সকালে কুয়াশার কারণে এমনিতেই কেন্দ্রে ভোটার কম ছিল। বিশেষ কোনো লাইন ছিল না। কিন্তু সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ করে একসঙ্গে দেড় শতাধিক নারী ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। তারা কয়েকটি সারিতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যান। তাদের অধিকাংশের মুখেই মাস্ক ছিল। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ওই নারীরা কেন্দ্রে এভাবে লাইনে অবস্থান করেন। পরে ভোট না দিয়েই তারা চলে যান।


Link copied