উদ্বোধনের পূর্বেই বেঁকে গেলো চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন

Anweshan Desk

Anweshan Desk

১২ অগাস্ট ২০২৩, ১২:৩১ পিএম


উদ্বোধনের পূর্বেই বেঁকে গেলো চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন

টানা বর্ষণ ও বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে অনেক স্থানে রেললাইন ভেঙে নিচ দিয়ে পানি চলাচল করছে। অনেকস্থানে মাটি ও পাথর সরে গেছে, বেকে গেছে রেললাইন। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে পর্যটন শহর কক্সবাজারের এই রেলপথ চালু হওয়ার কথা ছিলো আগামী সেপ্টেম্বরে। এতে নির্ধারিত সময়ে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের তেমুহনী এলাকায় বন্যার পানিতে রেললাইন ডুবে এ অবস্থা হয়েছে। টানা অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকা গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে ডুবতে শুরু করে। মঙ্গলবার ভোরে রেললাইন পানিতে তলিয়ে যায়। পরদিন বুধবার পানি নামে। এরপর রেললাইন উঁচু-নিচু ও বাঁকা হয়ে যাওয়া এবং লাইন থেকে পাথর ও মাটি সরে যাওয়া দৃশ্যমান হয়। এ পরিস্থিতির জন্য অপরিকল্পিত রেলপথ নির্মাণকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞ ও এলাকাবাসী। তাঁরা বলছেন, ছোট ছোট যে কালভার্ট রাখা হয়েছে, সেগুলো পানিনিষ্কাশনের জন্য যথেষ্ট নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যে অঞ্চলে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখান দিয়ে বান্দরবানের পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে এসে সাগরে গিয়ে পড়ে। রেললাইন নির্মাণের সময় তা বিবেচনায় নেওয়া দরকার ছিল। এখন রেললাইন করার কারণে পানিনিষ্কাশনের পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে বন্যার ব্যাপকতা বেড়েছে। মানুষকে যেমন ভুগতে হচ্ছে, তেমনি রেলের সম্পদ নষ্ট হয়েছে।

গতকাল শুক্রবারও রেললাইনের দুই পাশের এলাকা ও বিলে পানি জমে ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের এলাকায় এমন ভয়াবহ বন্যা হয়নি। রেললাইনের কারণে পানিনিষ্কাশনের পথ আটকে যাওয়ায় তাঁদের এলাকার বাড়িঘর ডুবে গেছে। যদি রেললাইনে পর্যাপ্ত কালভার্ট বা সেতু নির্মাণ করা হতো, তাহলে এত ক্ষতি হতো না।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা গত বৃহস্পতিবার ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন পরিদর্শন করেন। তাঁদের মতে, এক কিলোমিটারজুড়ে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করা যাবে। তাই নির্ধারিত সময়ে ট্রেন চালু নিয়ে সমস্যা হবে না। বন্যার পানিতে রেললাইনের এ অবস্থার কারণে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং তা সংস্কারে কত অর্থ ব্যয় হবে, তা এখনো পরিমাপ করা হয়নি বলে জানান তাঁরা।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা আরও জানান, বন্যায় রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা সংস্কারে বাড়তি অর্থ লাগবে না। কেননা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে এ কাজ করানো হবে।

এলাকাবাসীর অভিযোগের জবাবে দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে রেললাইনের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তবে

সম্ভাব্যতা যাচাই থেকে শুরু করে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই প্রকল্প শুরু করা হয়েছিলো। সেই হিসেবে রেললাইনের পূর্ব ও পশ্চিম উভয় পানির লেভেল সমান। রেললাইনের কারণে যদি হতো তবে একপাশে কম এবং অন্যপাশে বেশি থাকতো। উজানের পানি নেমে গেলে, আমাদের দোষ দেওয়া যেত, কিন্তু তা হয়নি। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রেললাইনে যাতে পানির জন্য বাধা না হয়, সেজন্য রেললাইনে ২০০ কালভার্ট ও সেতু করা হয়েছে।'

উল্লেখ্য, ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দোহাজারি-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের এই কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার ও রামু-ঘুমধুম পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার এবং রামু থেকে কক্সবাজার ১২ কিলোমিটার রেললাইন রয়েছে।

 

 


Link copied