পিকনিকের আড়ালে নাশকতার পরিকল্পনা : ৩১ বুয়েট শিবিরকর্মীসহ গ্রেফতার ৩৪

Anweshan Desk

Anweshan Desk

০২ অগাস্ট ২০২৩, ১৩:৪৮ পিএম


পিকনিকের আড়ালে নাশকতার পরিকল্পনা : ৩১ বুয়েট শিবিরকর্মীসহ গ্রেফতার ৩৪

সুনামগঞ্জের তাহেরপুর উপজেলায় টাঙ্গুয়ার হাওরের একটি হাউসবোট থেকে ৩৪ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ; তাদের মধ্যে ৩১ জন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র ও শিবির কর্মী ।

গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীরা ইসলামী ছাত্রশিবিরে যুক্ত বলে জানিয়েছেন পুলিশ ও তাদের আইনজীবীরা। বাকি তিন শিক্ষার্থী কিশোর। তারা এবার এসএসসি পাস করেছে। তবে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র, তা জানায়নি পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেলে তাহিরপুর থানার ১ নম্বর শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের দুধের আউটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পাটলাই নদীর পাড়ে অভিযান চালিয়ে স্থানীয় শহীদুলের নৌকা থেকে ওই ৩৪ জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, জানমালের ক্ষতিসাধন, রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলার লক্ষ্যে বুয়েট শাখার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বায়তুল মাল বিষয়ক সম্পাদক আফিফ আনোয়ারের নেতৃত্বে তারা হাওরে একত্রিত হয়েছিলেন।

আটকের একদিন বাদে সোমবার বিকালে তাদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে তাহেরপুর আমলি আদালতের নির্বাহী হাকিম মোহাম্মদ ফারহান সাদিক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) খায়রুল কবীর রুমেন।

গ্রেপ্তার বুয়েট শিক্ষার্থীরা হলেন- আফিফ আনোয়ার (২৪), বখতিয়ার নাফিস (২৪), মো. সাইখ সাদিক (২১), ইসমাইল ইবনে আজাদ (২১), সাব্বির আহম্মেদ (২১), তাজিমুর রাফি (২০), মো. সাদ আদনান অপি (২২), মো. শামীম আল রাজি (২০), মো. আব্দুলাহ আল মুকিত (২৩), মো. জায়িম সরকার (২১), হাইছাম বিন মাহবুব (২৫), মাহমুদুর হাসান (২২), খালিদ আম্মার (২১), মো. ফাহাদুল ইসলাম (২৩), তানভির আরাফাত ফাহিম (২১), এ টি এম আবরার মুহতাদী (২১), মো. ফয়সাল হাবিব (২০), আব্দুল বারি (২৪), আনোয়ারুল্লাহ সিদ্দিকী (২৮), মো. বাকি বিল্লাহ (২৮), মাহাদি হাসান (২৩), আলী আম্মার মৌয়াজ (২৫), টি এম তানভির হোসেন (২৬), মো. রাশেদ রায়হান (২৪), সাকিব শাহরিয়ার (২৩), ফায়েজ উস সোয়াইব (২৪), আব্দুর রাফি (২৫), আশ্রাফ আলী (২৫), মো. মাহমুদ হাসান (২৫), মো. এহসানুল হক (২৪), মাঈন উদ্দিন (২৪)।

মামলার বরাত দিয়ে তাহিরপুরের ওসি ইফতেখার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন,  “হাওরে পর্যটকরা মূলত শুক্র ও শনিবার আসেন। এই দুইদিন টাঙ্গুয়ার হাওর মুখর থাকে। কিন্তু এই শিক্ষার্থীর দলটি এসেছে রোববার।

ওসি আরও বলেন, “আমরা সবাইকে আলাদা আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তারা সবাই ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। মূলত বেড়ানোর নাম করে এখানে এসে গোপনে নাশকতামূলক সভা করেছে।”

এই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় এসআই রাশেদুল কবীর বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন।

আসামিদের সুনামগঞ্জ জেলা আদালতে আনা হলে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা সেখানে ভিড় করেন। মামলার শুনানিতেও জামায়াত সমর্থক আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।  

জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আইনজীবী আবুল বাশার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতরা ছাত্রশিবিরের কোন পর্যায়ের নেতা-কর্মী, তা এখনও আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। তাদের জন্য আইনজীবী নিয়োগের ব্যাপারে পরিবার থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।”


Link copied