অধ্যাপক তাহের হত্যা : আসামিদের ফাঁসি কার্যকরে নেই বাধা

Anweshan Desk

Anweshan Desk

২৬ জুলাই ২০২৩, ০৯:৫৬ এএম


অধ্যাপক তাহের হত্যা : আসামিদের ফাঁসি কার্যকরে নেই বাধা

ছবি : বাম থেকে অধ্যাপক তাহের, খুনি মিয়া মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অধ্যাপক ড. তাহের আহমেদ হত্যা মামলায় আসামি ড. মিয়া মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে রাজশাহী কারা কর্তৃপক্ষ জানান। মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) পরিবারের সদস্যরা দণ্ডপ্রাপ্তদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

আসামি জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘রবিবার কারা কর্তৃপক্ষ আমাদের চিঠি দিয়েছিল। রিট পেন্ডিং থাকায় আমরা তখন দেখা করিনি। রিট নিষ্পত্তি হওয়ার পর আজ (মঙ্গলবার)  দুপুরে আমরা দেখা করেছি। আমাদের পরিবারের ৩৫ জন দেখা করতে এসেছিলেন।’

এর আগে অপর আসামী সহকারী অধ্যাপক ড. মিয়া মহিউদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা শেষবারের মতো দেখা করেছেন।

দু’জনের প্রাণভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতি নাকচ করার পর ফাঁসি কার্যকর স্থগিত চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিল জাহাঙ্গীরের পরিবার। মঙ্গলবার ওই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। ফাঁসি কার্যকরের আর কোনো আইনি বাধা না থাকায় এ দিন স্বজনদের সাক্ষাৎ করতে ডাকে কারা কর্তৃপক্ষ।

রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচের চিঠি গত ৫ জুন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। কারা বিধান অনুযায়ী চিঠি পৌঁছার ২১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করতে হয়। সে অনুযায়ী আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার নিজাম উদ্দীন হিরো বলেন, এ মাসের মধ্যেই যে কোনো সময় ফাঁসি কার্যকর করা হবে। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ জানান, ফাঁসি কার্যকর কখন হবে– এ বিষয়ে কোনো তথ্য তার কাছে নেই। তবে কারা কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

অধ্যাপক তাহেরের মেয়ে হাইকোর্টের আইনজীবী সেগুফতা তাবাসুম আহমেদ বলেন, রায় কার্যকর করতে আর কোনো বাধা নেই। তারা চান দ্রুত রায় কার্যকর করা হোক।

অধ্যাপক তাহের এর স্ত্রী ও কন্যা 

২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারের ম্যানহোল থেকে উদ্ধার করা হয় নৃশংসভাবে হত্যার শিকার অধ্যাপক তাহেরের মৃতদেহ। ৩ ফেব্রুয়ারি নিহতের ছেলে সানজিদ আলভি আহমেদ রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

৬৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস তাহের আহমেদ জীবিত থাকলে একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন কোনোদিন অধ্যাপক না হতে পারার শঙ্কায় ছিলেন। এমন শঙ্কা থেকেই তাহেরকে খুন করেন তিনি।

অধ্যাপক তাহের হত্যা মামলায় ২০০৮ সালের ২২ মে রাজশাহীর দ্রুত বিচার আদালত ৪ জনকে ফাঁসির আদেশ ও ২ জনকে বেকসুর খালাস দেন। খালাসপ্রাপ্ত চার্জশিটভুক্ত ২ আসামি হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম সালেহী ও আজিমুদ্দিন মুন্সী। ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ এ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছিল পুলিশ।

পরে নিয়ম অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণ) হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি আসামিরা আপিল করেন। সেসব আবেদনের শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ২১ এপ্রিল হত্যা মামলায় দুই আসামির ফাঁসির দণ্ডাদেশ বহাল এবং অন্য দুই আসামির দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয় হাইকোর্ট।

ফাঁসির দণ্ডাদেশ বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির, তারা হলেন অধ্যাপক ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও মো. জাহাঙ্গীর আলম। যে দুজনের ফাঁসির দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে, তারা হলেন মো. জাহাঙ্গীর আলমের ভাই নাজমুল আলম ও তার সমন্ধি আব্দুস সালাম।


Link copied