বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা নিয়ে হলিউডে প্রামাণ্যচিত্র

Anweshan Desk

Anweshan Desk

১৯ জুলাই ২০২৩, ১৮:১২ পিএম


বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা নিয়ে হলিউডে প্রামাণ্যচিত্র

২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক হ্যাকিংয়ে ৮১ মিলিয়ন ডলার (১০ কোটি ১০ লাখ ডলার) হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা তুলে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাচ্ছে ‘বিলিয়ন ডলার হাইস্ট’ শিরোনামের এই প্রামাণ্যচিত্র। আগামী ১৫ আগস্ট প্রামাণ্যচিত্রটি মুক্তি পাবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ভার্জ। ইতোমধ্যে এটির  ট্রেইলার ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে।

সারা বিশ্বকে নাড়া দেওয়া এই ঘটনার পর বিশ্বের সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা কী পরিমাণ সতর্ক হয়ে উঠেছিলেন; তারও একটা উদাহরণ এটি।

বিলিয়ন ডলার হাইস্ট' তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে কীভাবে হ্যাকাররা সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিনান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন ব্যাংকিং সিস্টেম ব্যবহার করতে সক্ষম হয়। তারা সারা বিশ্বের মেসেজিং নেটওয়ার্ক ব্যাংকগুলোকে একে অপরের সঙ্গে ট্রান্সফার করে। এরপর তারা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে অবৈধভাবে ১০১ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে ফেলে।

বিভিন্ন সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ এবং লেখক মিশা গ্লেনির সঙ্গে একাধিক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে 'বিলিয়ন ডলার হাইস্ট' বাংলাদেশ ব্যাংকের ডাকাতিকে একটি ডেটা পয়েন্ট হিসেবে একটি বৃহত্তর ক্যানভাসে তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে দেখানো হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাইবার ক্রাইম কতটা পরিশীলিত এবং প্রচলিত হয়ে উঠেছে।

ট্রেইলারে গ্লেনির দাবি, সমন্বিত সাইবার আক্রমণগুলো মানবতার জন্য একই ধরনের হুমকি তৈরি করে; যেমনটা করে থাকে মহামারি, গণবিধ্বংসী অস্ত্র এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো।

'বিলিয়ন ডলার হাইস্ট' তথ্যচিত্রে দেখানো হয়েছে, কীভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডাকাতির ঘটনা ঘটে এবং পরবর্তীতাদের এ ধরনের আক্রমণের জন্য হ্যাকারদের উৎসাহী করে তোলে যা আগ্রহী যে কাউকে এ ডকুমেন্টারিতে চোখ রাখতে উৎসাহিত করবে।

 

ডকুমেন্টারিটি আগামী ১৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাবে।

 

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি হওয়া রিজার্ভের অন্তত ৮১ মিলিয়ন ডলার ম্যানিলাভিত্তিক আরসিবিসির অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে ফিলিপাইনের ক্যাসিনোগুলোতে সেগুলো ব্যয় করা হয়।

২০১৬ সালে ফেব্রুয়ারিতে রিজার্ভ চুরির ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশের মানুষ জানতে পারে এক মাস পর, ফিলিপিন্সের সংবাদ মাধ্যমের খবরে। তখন বিশ্বজুড়ে ঘটনাটি আলোড়ন তুলেছিল। ওই বছর ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে (ফেড) রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নিউ ইয়র্কের ‘এখতিয়ারভুক্ত’ আদালতে আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সে মামলার নিষ্পত্তি হয়নি এখনও। সে সময় ঢাকার মতিঝিল থানাতেও একটি মামলা হয়, যার তদন্ত প্রতিবেদন গত সাত বছরেও জমা পড়েনি।

রিজার্ভ চুরির ওই ঘটনার জেরে বাংলাদেশ ব্যাংকের তখনকার গভর্নর আতিউর রহমানকে পদত্যাগ করতে হয়। দুই ডেপুটি গভর্নরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের কারো বিরুদ্ধেই কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের সবারই নির্দিষ্ট সময়ে পদোন্নতি হয়েছে। অনেকে চাকরি শেষে অবসরেও গেছেন।


Link copied