ফেইস প্যারালাইজড নিয়ে মোল্লাদের অপপ্রচার এবং অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ

Anweshan Desk

Forhad Hossain Fahad

১০ মার্চ ২০২৩, ১২:৩৯ পিএম


ফেইস প্যারালাইজড নিয়ে মোল্লাদের অপপ্রচার এবং অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ

ছবি : সম্প্রতি গায়ক তাসরিফ খানের ফেইস প্যারালাইজড নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে এক ধর্মীয় ইনফ্লুয়েন্সার

এসব ধর্মীয় ইনফ্লুয়েন্সাররা যে কতটা অজ্ঞ আর যুক্তিবোধহীন হতে পারে তার উদাহরণ দেখুন।

প্রথমত, ফেইস প্যারালাইজড এটা নতুন কোন রোগ নয়, নবী মোহাম্মদেরও জন্মের হাজার বছর আগে থেকে এটা হয়ে আসছে। আগে ইন্টারনেটের ছড়াছড়ি ছিলো না বলে সাধারণ মানুষ এই রোগ সম্পর্কে কম জানতো, জাস্ট এটাই।

দ্বিতীয়ত, এটা তো নির্দিষ্ট করে শুধু গায়কদের হয় না। যে কোন মানুষের হয় এবং হয়ে আসছে। এমনকি জরিপ করলে দেখা যাবে গায়কদের চেয়ে সাধারণ মানুষ বা হুজুরদের বেশি হয়েছে। বিখ্যাত একজন বক্তারও এই রোগ হয়েছিল এবং  আমার এক কাজিন মাওলানারও হয়েছিলো। তিনি ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থও হয়েছিলেন।

২০১৯ সালে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বিখ্যাত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং বক্তা  জুবায়ের আহমদ আনসারী

দেখুন, যখন সাধারণ মুসলিম এবং মাওলানাদের এই রোগ হয় তখন এই ধর্মীয় কেয়ামতের আলামত বিশেষজ্ঞরা ঘুমিয়ে থাকে। তখন নবীর ভবিষ্যদ্বাণীর কথাও ভুলে যায়, তাদের অনুসারীরাও চুপ থাকে এবং যতটা সম্ভব গোপন রাখে। অথচ যখনই কোন গায়ক বা অমুসলিমের এই রোগ হয়, তখন তাদের অপপ্রচার শুরু হয়। কিন্তু রোগ তো কোন গায়ক পায়ক বা ধার্মিক নিধার্মিক চিনে না।

আজ থেকে প্রায় ২৫০০ বছর পূর্বে গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটিস এই রোগ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলেন

অর্থাৎ, নবীর কোন ভবিষ্যদ্বাণী  তাদের মনমতো না হলে, তারা চুপ থাকে কিন্তু যখনই ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কোন একটা বাণী মিলে যায় তখনই প্রচার করা শুরু করে। যেন তারা জোর করে কেয়ামত নামিয়ে ফেলবে। কি পরিমাণ ঠুনকো এসব দাবি তা একটু যৌক্তিক চিন্তা করলেই বুঝা যায়।

অথচ, প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কে মানুষের অজ্ঞতা এবং ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে মূর্খের মতো খালি মাঠে গোল দিয়েই যাচ্ছে আর ভিউ কামাচ্ছে। চিন্তাশক্তিহীন এইসব অনুসারীরা ভাবে না যে প্রতিটি মানুষের মৃত্যুই তো তার জন্য কেয়ামত। একটি অনিশ্চিত বিষয় নিয়ে এতো হায় হুতাশ বা সাধারণ মানুষের মাঝে ভয় সৃষ্টি করার তো কিছু নেই।

করোনা নিয়েও এরা প্রথম প্রথম একই কাজ করেছিলো। কিন্তু পরে কি হয়েছিল আমরা জানি। যারা বলেছিলো করোনা অমুসলিমদের জন্য গজব, তারা শুধু আক্রান্তই হননি, এমনকি করোনাই মৃত্যুবরণ করেছিলো। প্রথম প্রথম যেসব ইসলামী বক্তারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল এবং মারা গিয়েছিল তারা লজ্জায়  সেটা গোপনও করেছিল। এভাবেই করোনা তাদের উচিত শিক্ষা দিয়েছিলো, তবুও এদের শিক্ষা হয়নি।

প্রকৃতির কোন ধর্ম নেই, প্রকৃতি যে এসব কোন ধর্ম চিনে না তা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। তবু্ও এরা বুঝার চেষ্টা করে না।

 

রেফারেন্স :

https://m.youtube.com/watch?v=QSNkLBNBibE

https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3140075/


Link copied