ফেসবুকে ধর্ম 'অবমাননাকর' পোস্ট, হিন্দু স্কুল শিক্ষকের ৮ বছর কারাদণ্ড

Anweshan Desk

মত প্রকাশের স্বাধীনতা ডেস্ক

০৫ জুলাই ২০২২, ১৫:০২ পিএম


ফেসবুকে ধর্ম 'অবমাননাকর' পোস্ট, হিন্দু স্কুল শিক্ষকের ৮ বছর কারাদণ্ড

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে 'অবমাননাকর বক্তব্য' দেয়ার অভিযোগে, দেবব্রত দাস নামে এক হিন্দু স্কুল শিক্ষককে আট বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইবুনালের একটি আদালত। সোমবার (৪ জুলাই)  ট্রাইবুনালের বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবিরের আদালত এ রায় দেন।

 

রায় ঘোষণার সময় স্কুল শিক্ষক দেবব্রত দাস আদালতে উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষক দেবব্রত নোয়াখালী জেলার চৌমুহনী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি জেলার  হাতিয়া উপজেলার দক্ষিণ চরইশ্বর এলাকার সুবল চন্দ্র দাশের ছেলে। 

 

এ রায় সম্পর্কে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইবুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মেজবাহউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায়, আদালত তাকে আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির থাকা অভিযুক্তকে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মোট আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে, এ রায় ঘোষণা করা হয়।”

মামলার নথি এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসের ১৫ ও ২৮ তারিখে নোয়াখালীর হাতিয়ায় ইসলাম ধর্ম নিয়ে ফেসবুকে অবমাননাকর পোস্ট দিয়েছেন শিক্ষক দেবব্রত দাস বলে অভিযোগ তোলে স্থানীয় উগ্রপন্থী মুসলমানদের একটি চক্র। এছাড়া তাঁর গ্রেফতার ও ফাঁসীর দাবিতে তৌহিদী জনতার ব্যানারে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পরিবেশ সৃষ্টি করে ধর্মান্ধ ও উগ্রপন্থীদের চক্রটি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাতিয়া থানার পুলিশ সদস্য হুমায়ূন কবীর বাদী হয়ে, তাকে অভিযুক্ত করে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করে।

মামলায় অভিযোগ আনা হয়, শিক্ষক দেবব্রত ১৫ অক্টোবর রাত ৯টা ১২ মিনিটে ও ২৮ অক্টোবর রাত ৮টা ৫৯ মিনিটে তার ফেসবুক আইডি থেকে দেয়া পৃথক দুটি পোস্টে, ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কটূক্তি করে নানা বক্তব্য লিখেন। এতে ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত সৃষ্টি হয়েছে।

মামলা দায়েরের পর, ঐ দিনই পুলিশ দেবব্রত দাসকে হয়রানীমূলক গ্রেপ্তার করে।

এরপর, ২০১৮ সালের ১০ জুন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের  বিচারক মামলার চার্জ গঠন করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে  পাঠানো হয়। সোমবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে দেবব্রত দাসকে আট বছরের কারাদণ্ডের সাজা শোনান। সাজা ঘোষণার পরেই দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়।  

 

উল্লেখ্য, বিলুপ্ত আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (২০১৮) বেশকিছু ধারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। বিগত বছরগুলোতে এই আইনের অপব্যবহারের কারণে অসংখ্য মানুষ হয়রানির শিকার আসছেন। বিশেষ করে অনলাইন এক্টিভিস্ট, ব্লগার, গণ মাধ্যম কর্মী এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হয়রানি করার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে এই কালো আইন।

 

এই আইনের মাধ্যমে কাউকে শাস্তি দেয়া মত প্রকাশের স্বাধীনতার বড় অন্তরায় ও সার্বজনীন মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লংঘন হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে দেশী-বিদেশী মানবাধিকার সংস্থাগুলো। 

৩৫২ বার পঠিত

মত প্রকাশের স্বাধীনতা থেকে আরও


Link copied