শৈলকুপায় আট হিন্দু বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, আহত ১৫

Anweshan Desk

জাতীয় ডেস্ক

০৩ অগাস্ট ২০২২, ১৫:৩৮ পিএম


শৈলকুপায় আট হিন্দু বাড়িতে হামলা ও লুটপাট,  আহত ১৫

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কামারিয়া গ্রামে  আট হিন্দু বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে স্থানীয় একদল মুসলমান সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নারীসহ কমপক্ষে ১৫ জন হিন্দু ধর্মালম্বী। গত রোববার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার রতন চন্দ্র কুন্ডু বাদী হয়ে শৈলকুপায় থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ৩২ জনকে এজাহারনামীয় ও ২৫-৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রধান আসামি করা হয়েছে পার্শ্ববর্তী বগুড়া ইউনিয়নে মেম্বর মো. ফরিদ মুন্সিকে। আসামিদের বাড়ি বগুড়া ও রত্নাঘাট গ্রামে। ঘটনাস্থল থেকে ৬–৭ কিলোমিটার দূরে। এ ঘটনার নেপথ্যে  চাঁদাবাজিও রয়েছে। সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গ্রামে ঢুকে প্রথমে চায়ের দোকানদার দেব কুমারের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এরপর তাকে মারপিঠ শুরু করে। সার ব্যবসায়ী বিকাশ মন্ডল লাঙ্গলবাঁধ বাজার থেকে ফিরছিলেন। তার কাছ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। তাকেও মারপিট করে। হামলাকারীরা বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে গালিগালাজ করে। ত্রাস সৃষ্টি করে ঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। 

মামলার বাদী রতন চন্দ্র কুন্ডু বলেন, মাঝেমাঝে সন্ত্রাসীরা এ গ্রামে এসে চাঁদা দাবি করে। না পেয়ে বকাবকি করে। চাঁদাবাজির কারণে এ হামলার হয়েছে। সোমবার ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও শৈলকুপা আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হাই ঘটনাস্থলে যান। তিনি আমাদের পাশে থাকার নিশ্চয়তা দেন। আর অপরাধীদের বিচার করা হবে বলে জানান। তার সঙ্গে দলের স্থানীয় নেতা কর্মীরা ছিলেন।’ 

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, কামারিয়া গ্রামের সব পরিবারই হিন্দু সম্প্রদায়ের। দিন সাতেক আগে পাশের বগুড়া গ্রাম থেকে জনা বিশেক লোক এসে ঘোরাঘুরি করলে কামারিয়া গ্রামের মানুষ থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়।এর জের ধরে রোববার রাতে আবার কামারিয়া গ্রামে হামলা চালানো হয় বলে ওসি আমিনুলের ভাষ্য।

তিনি বলেন, “বগুড়া এলাকা থেকে ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী গিয়ে বেছে বেছে আটটি হিন্দু বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। তাদের মারধরে নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।”

হামলার শিকার কামারিয়া গ্রামের সন্ধ্যা রানী বলেন, “সন্ত্রাসীরা আমার ছেলের দোকানে ভাঙচুর করেছে, মালামাল লুট করে। আমার ছেলেকে পিটিয়ে আহত করেছে।”

হামলার সময় গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল জানিয়ে ভুক্তভোগী শিখা রানী বলেন, “মাঝে মধ্যে বাইরের গ্রাম থেকে সন্ত্রাসীরা এসে চাঁদা চাইত।”

ওই গ্রামের সুনীল মণ্ডল, দীপক মণ্ডল, ভরত মণ্ডল, জ্ঞানেন্দ্র মণ্ডল, উত্তম বাইন, সজল বারই, দেব কুমার ও বিকাশ কুমারের বাড়িতেও হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মুনতাসিরুর ইসলাম বলেন, “কয়েকদিন আগে কামারিয়া গ্রামে একটি মোটর সাইকেল চুরির ঘটনা নিয়ে বিরোধ হয় বলে শুনেছি। তবে এবার কি কারণে বাইরের গ্রাম থেকে আসা লোকজন হামলা করল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

৬৩৩৪ বার পঠিত

ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন থেকে আরও


Link copied