মুন্সীগঞ্জে হিজাব না পরায় ছাত্রীদের চুল কেটে দিলেন শিক্ষিকা

Anweshan Desk

ডেস্ক রিপোর্ট

২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ২২:০৫ পিএম


মুন্সীগঞ্জে হিজাব না পরায় ছাত্রীদের চুল কেটে দিলেন শিক্ষিকা

ছবি : ভুক্তভোগীদের একজন মাইসা জাহানের কাটা চুল

মুন্সীগঞ্জে হিজাব না পরার কারণে শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে রুনিয়া সরকার নামক এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার রাজানগরের সৈয়দপুর আব্দুর রহমান স্কুল এন্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রুনিয়া সরকার ওই স্কুলের বিজ্ঞান এবং স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিষয়ের শিক্ষিকা। সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাব্বির আহমেদ রাত ১০টার দিকে এ খবর নিশ্চিত করেন।

৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইসা জাহান, মাইসা আক্তার, তানজিলা আক্তার, আনীল আক্তার, তাসফিয়া, মাহাদিয়া, সুমাইয়া ও ইফাসগসহ ১০-১২ জন ছাত্রী হিজাব পরে না আসার কারণে তাদের চুল কেটে নেয়া হয় বলে জানায় তারা। মাইসা জাহান ও তানজিলা আক্তারের বাড়ী সৈয়দপুরে, আনীলা আক্তার ও তাসফিয়ার বাড়ী মোহাম্মদপুরে, মাহাদিয়া ও সুমাইয়ার বাড়ী মধুপুরে, ইফার বাড়ী বাঐখোলা। 

মাইসা জাহান জানায়, ‘আমার একটাই হিজাব। ওই হিজাবটা ময়লা হয়ে গেছে। তাই ধুয়ে দিয়েছি। এজন্য পরে যেতে পারিনি।’ ম্যাডামকে অনেক অনুরোধ করে বললেও আমি রক্ষা পাইনি, ম্যাডাম আমাদের চুল কেটে দিল। তাই আমি আর স্কুলে যামু না। 

মাইসা জাহানের পিতা কহিনুর বলেন, ‘আমার মেয়ে অন্যায় করেছে বললেই হত, আমরা শাসন করতাম। তাকে চুল কেটে ন্যাড়া বানিয়ে দিল। তাই আমার মেয়েটা ভেঙে পড়েছে। ও আর স্কুলে যেতে চাচ্ছে না।’ 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন, ‘বর্তমান সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম হোসেন সাহেব সভাপতি হওয়ার পর ছেলে মেয়েদের ড্রেস কোড চেঞ্জ করেছেন, এ ব্যাপারে তিনি শিক্ষকদের খুব চাপে রাখেন এবং এ বিষয়ে যে কোনো অ্যাকশন নিতে বলেন।’

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষিকা রুমিয়া সরকারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি আমরা রাত ৯টার দিকে জানতে পারি। ঘটনা শুনে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদ বলেন,  ক্লাসেই কাঁচি ছিল তাই হাতের কাছে পেয়ে এ কাজ করে ফেলেছে। ভয় দেখানোর জন্য কিছুটা চুলও কেটেছে বলে শুনেছি, তবে কাজটা অন্যায় করেছে । আমরা ব্যবস্থা নিব ।

ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন থেকে আরও


Link copied