আরবি ক্যালিগ্রাফি খচিত পোশাক পরায় পাকিস্তানে কিশোরীকে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টা

Anweshan Desk

Anweshan Desk

২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ২২:৪১ পিএম


আরবি ক্যালিগ্রাফি খচিত পোশাক পরায় পাকিস্তানে কিশোরীকে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টা

পাকিস্তানের  লাহোরের ইচরা বাজারে আরবি হরফের ক্যালিগ্রাফি খচিত একটি জামা পরে গিয়েছিলেন এক কিশোরী, কিন্তু স্থানীয় ক্রেতা, পথচারী ও অন্যান্যরা ওই কিশোরী পবিত্র কোরআনের আয়াত লেখা জামা পরে ব্লাসফেমি বা ধর্ম অবমাননা করেছেন অভিযোগ তুলে তার ওপর চড়াও হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ সদস্যরা শত শত মানুষের মাঝ থেকে ওই কিশোরীকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যায়। পরে ওই কিশোরী প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছিল।

বিবিসি জানায়, পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোরে ওই রেস্তোরাঁয় আসা নারীটির পোশাকে আরবি ক্যালিগ্রাফি ছিল। স্থানীয়দের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, সেখানে কুরআনের আয়াত লেখা।

লাহোর পুলিশ বিবিসিকে বলেছে, রোববার স্থানীয় সময় ১টা ১০ মিনিটে তারা প্রথম একটি টেলিফোন কল পায়। ওই সময় টেলিফোনে পুলিশকে জানানো হয়, পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোরের একটি রেস্তোরাঁয় এক নারীকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শেহরবানো রেস্তোরাঁর প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে ক্রমশ উত্তেজিত হয়ে ওঠা জনতার মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। পুলিশের ওপর  আস্থা রাখতে বলছেন তাদের।

লাহোর পুলিশের সহকারী সুপারিন্টেনডেন্ট সৈয়দা শেহরবানো বলেন, কেউ আসলে জানত না শার্টে কি লেখা ছিল। পোশাকটিতে ক্যালিগ্রাফি করা আরবি হরফে ‘হালওয়া’ শব্দটি মুদ্রিত ছিল। আরবি ভাষায় ‘হালওয়া’ শব্দের অর্থ মিষ্টি। ‘সুন্দর’ অর্থেও ব্যবহৃত হয় শব্দটি। কিন্তু স্থানীয়রা সেটিকে ভুল করে কুরআনের আয়াত ভেবেছিল।

শেহরবানো বলেন, সবচেয়ে দুঃসাধ্য কাজ ছিলো ওই নারীকে নিরাপদে ওই জায়গা থেকে বের করে আনা।

ভুক্তভোগীকে একটি বোরকার সঙ্গে হিজাবের মতো করে মাথা ও মুখমণ্ডল ঢেকে বের করে নিয়ে আসেন তিনি। এ সময় তাদের বেষ্টন করেছিল পুলিশ সদস্যরা। উত্তেজনামুখর পরিস্থিতিতে একরকম দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তারা।

শেহরবানো জানান, তাকে সমবেত লোকজনের সাথে রীতিমত আলোচনা করতে হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমরা তাদের বলি, এই নারীকে আমাদের সঙ্গে করে নিয়ে যাবো, তার কর্মকাণ্ড আইনিভাবে আমলে নেয়া হবে এবং দেশের আইন অনুসারে যদি তিনি কোনো অপরাধ করে থাকেন তবে অবশ্যই তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হবে। তাকে একটি থানায় যাওয়া হয়। সেখানে বেশ কয়েকজন আলেমের মতামত নেয় হয়। তারা নিশ্চিত করেন যে, পোশাকের লেখাটিতে আরবি ক্যালিগ্রাফিই ছিল, কুরআনের আয়াত নয়।

তখন পুলিশ আলেমদের একটি ভিডিও রেকর্ড করতে বলে। ভিডিওতে তাদের মতামত এবং নারীটি যে নির্দোষ সেটি উল্লেখ করা হয়। অবশ্য ওই নারীও ক্ষমা চেয়েছেন।

সাক্ষাৎকার থেকে আরও

কোনো খবর পাওয়া যায়নি


Link copied