কুমিল্লায় মাদ্রাসা শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার হয়ে আন্তঃসত্ত্বা কিশোরী

Anweshan Desk

ডেস্ক রিপোর্ট

১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ২২:৫৭ পিএম


কুমিল্লায় মাদ্রাসা শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার হয়ে আন্তঃসত্ত্বা কিশোরী

অভিযুক্ত শিক্ষক হাপেজ মাওলানা মো. ফয়েজুর রহমান

কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌরসভার ছোট আলমপুর গ্রামের উম্মে ফয়েজ তা’লীমুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার হয়ে আন্তঃসত্ত্বা হয় চতুর্থ শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রী। পরে সত্য ঘটনা সামনে এলে ধর্ষিতা ছাত্রীর বাবার করা মামলায় ওই মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মো. ফয়েজুর রহমান (৪০) কে গ্রেফতার করে শনিবার সকালে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং বিকেলে  আদালতে পাঠানো হয়। 

ধর্ষিতা ওই কিশোরী (১৪) জানান, ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন শিক্ষক। তাই লজ্জা এবং ভয়ে কাউকে তা জানায়নি।

গ্রেপ্তার ফয়েজুর রহমান পৌরসভার ইকরা নগরী এলাকার দারোগা বাড়ির মৃত হাফেজ খলিলুর রহমানের ছেলে এবং ওই মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ও শিক্ষক। এছাড়াও তিনি ২০১৪ ইং সনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামি আন্দোলন থেকে ‘পাখা মার্কা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা  করেছিলেন। পারিবারিক জীবনে তিনি ৩ পুত্র সন্তান ও ১ কণ্যা সন্তানের জনক।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ফয়েজুর গত বছরের ২৩ নভেম্বর দুপুর ১২টার মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার পর ওই ছাত্রীকে (১৪) তার কক্ষ ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এর এক মাস পর অসুস্থ হলে ডাক্তারি পরীক্ষায় জানা যায় ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনার পর ১ মাস ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বলেন, ওই মাদ্রাসায় আমার মেয়ে প্রায় ৪ বছর ধরে লেখাপড়া করছে। প্রায় সময় আমার মেয়েকে কাজের কথা বলে তার কক্ষে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করত ফয়েজুর। মেয়ে লজ্জা ও ভয়ে কাউকে কিছু বলত না। গত ২৩ জানুয়ারি সাড়ে ১২টার দিকে মেয়ের পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হলে তাকে দেবিদ্বারে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে বলেন। পরে রিপোর্টে দেখা যায় আমার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, দেবীদ্বার পৌর এলাকাতেই শতাধিক মাদ্রাসা আছে। বিভিন্ন ভবনে বাসা ভাড়া নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কোথাও প্রাইভেট পড়ানোর নামে কোথাও বা মহিলা মাদ্রাসা, হাফেজিয়া মাদ্রাসা। এসব মাদ্রাসার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতারাই শিক্ষক, অধ্যক্ষ বা মোহতামিম থাকেন। আর এসব প্রতিষ্ঠান গুলোতে ধর্মপ্রাণ মুসলিম পরিবারের লোকজন তাদের সন্তানদের নিরাপদ মনে করে ধর্মীয় শিক্ষার্জনে পাঠান। প্রায়ই শিশু-কিশোর-কিশোরীরা ধর্ষণ - বলৎকার ও যৌন হয়রানীর শিকার হচ্ছে। অমানবিক নির্যাতনে কেউ কেউ মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে গিয়ে বখে যাচ্ছে। এসকল ভূৃঁইফোড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দ্বীনি শিক্ষার নামে অনৈতিক কর্মকান্ড রোধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনেরও কোন নজরদারি নেই। প্রতিবাদ করলে কিংবা বিচার চাইলে একশ্রেণীর প্রভাবশালীরা ধর্মের বিরুদ্ধে বা আলেমের বিরুদ্ধাচারণ করার দাবী তুলে বলে উল্টো হেনস্থার শিকার হতে হয়৷ কিন্তু সত্য তো চাপা থাকে না, সত্য একদিন প্রকাশ পেয়ে যায়। 

দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নয়ন মিয়া জানান, আজ সকালে ওই শিক্ষককে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয় করা হয়েছে। পরে বিকেলে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সাক্ষাৎকার থেকে আরও

কোনো খবর পাওয়া যায়নি


Link copied